|
| বিস্তারিত |
নাটোরের বাঙ্গি রাজধানীর ইফতারিতে
নাটোরে উৎপাদিত বাঙ্গি সরবরাহ হচ্ছে রাজধানীতে। ব্যবহার হচ্ছে ইফতারির প্লেটে। সারাদিনের রোজা শেষে শরীরে পানীয় জলের ভারসাম্য পূরণে বাঙ্গির ভূমিকা অনন্য।
ফরিদপুর জেলার আটরশী এলাকার শৈলডুবি মজুমদার বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী ফখরুল আলম এবং সোনা মিয়া নাটোরে বাঙ্গি উৎপাদনের উদ্যোক্তা। তারা জানান, ফরিদপুর তুলনামূলক নিম্নাঞ্চল হওয়ার কারণে বর্ষার পানিতে জমি ডুবে যায়। তাই দুই বছর আগে রোজার ইফতারকে উপলক্ষ করে তারা অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি এলাকা নাটোরে আসেন। জুনের শেষার্ধে নাটোরের নর্থবেঙ্গল চিনিকল কৃষি খামারের ১২ একর জমি ইজারা নেন। মাত্র তিন মাস মেয়াদে ১২ একর জমির ইজারা নেন ৭২ হাজার টাকায়।
শুরু হয় রোজার ইফতারকে উপলক্ষ করে বাঙ্গি ফলানোর কর্মযজ্ঞ। লালমোন জাতের বাঙ্গি চাষে প্রতি মান্দায় ব্যবহার করা হয় পঁচা গোবর, পাঁচ কেজি, টিএসপি ৫০ গ্রাম, এমপি ২৫ গ্রাম এবং ইউরিয়া ৭৫ গ্রাম। প্রয়োজনে সামান্য সেচ। আবার খানিকটা নিড়ানির প্রয়োজন পড়ে। এসবের জন্য এই কৃষি খামারে প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেছে। তিন মাসের মোট খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
বীজ বপণের ৭০ দিনের মাথায় প্রথম রমজানেই ফল উঠতে শুরু করে। বিপণন করা হয় ঢাকা, পাবনা আর নাটোরের বাজারে। উৎপাদক ফখরুল আলম জানিয়েছেন, উৎপাদিত বাঙ্গি নাটোর ও পাবনায় গড় বিক্রয়মূল্য প্রতিটি ২৫ টাকা এবং ঢাকায় ৫০ টাকা। একদিন পর পর সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার বাঙ্গি বোঝাই একটি করে ট্রাক ঢাকায় যাচ্ছে। শ্যামবাজারের ফলের আড়ৎদার আব্দুর রাজ্জাক এই ফলের আমদানিকারক। তাঁর আড়ৎ হয়ে বাঙ্গি পৌঁছে যায় ঢাকাবাসীর কাছে। রাজধানীর মতো নাটোরের মানুষও তাদের ইফতারে বাঙ্গি খাচ্ছেন নিয়মিত। নাটোর কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের ফল ব্যবসায়ী সাদেকুজ্জামান সাদেক জানান, গড়ে প্রতিদিন ১০০টি করে বাঙ্গি বিক্রি করছেন। দাম ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
নাটোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি মোঃ আমিনুল হক বলেন, এবারের রমজানে বাজারে পাকা পেঁপে খুব একটা ওঠেনি। ওই স্থান পূরণ করেছে বাঙ্গি। এসব বাঙ্গি সুস্বাদুও বটে। তাই ইফতারের অন্যতম আকর্ষণ এই বাঙ্গি।
বাঙ্গির খাদ্য উপাদানের মূল অংশই পানি, যা প্রতি ১০০ গ্রামে ৯০.৮ গ্রাম। ১৬ কিলোক্যালরির ১০০ গ্রামের বাঙ্গিতে থাকা অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আয়রণ ৭.৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম উল্লেখ্যযোগ্য।
ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সারাদিন রোজা থাকার পর শরীরের পানিশূণ্যতা পূরণে বাঙ্গি অনন্য। এছাড়া এটি গ্লুকোজ ছাড়াই সরাসরি ফ্রুকটোজ হিসেবে বিমুক্ত হয় বলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে। শরীর সতেজ করে।
উপজেলা কৃষি অফিসার খয়ের উদ্দিন মোল্লা বাসসকে বলেন, সামনের মৌসুমগুলোতে শুধু বাইরের উদ্যোক্তা নয়, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ঘটবে বাঙ্গি চাষে। বাড়বে এর পরিধি। অন্যান্য ফল ও শষ্যের বহুমুখীকরণেও বাঙ্গি উৎসাহ যোগাবে কৃষকদের।
দি-এডিটর/প্রতিনিধি/নাটোর/এসবি/০২.০৯.১০ | |
|
|